Home / বাংলাদেশ / রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিলে তাতে সাড়া দেবেন খালেদা জিয়া!

রাষ্ট্রপতি উদ্যোগ নিলে তাতে সাড়া দেবেন খালেদা জিয়া!

রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ দুই নেত্রীকে সংলাপের জন্য ডাকলে তাতে সাড়া দেবেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তার আগে রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সংলাপে বসার জন্য রাজি করাবেন। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি এটাও বোঝাবেন যে, এখন যে অবস্থা চলছে, তা বন্ধ করতে হলে সংলাপের বিকল্প নেই। সংলাপ না হলে দেশের অবস্থা আরো খারাপ হবে। অর্থনৈতিক অবস্থা আরো নাজুক হবে। এই কারণে দুই দলের প্রধান নেত্রীকে সংলাপে বসে এর একটা ইতিবাচক সমাধান করা দরকার। রাষ্ট্রপতি যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সংলাপ করতে এবং সেই সংলাপ ব্যর্থ নয় সফল হবে, এমন একটি শর্তে রাজি করাতে পারেন, তাহলে বিএনপি চেয়ারপারসন রাজি হতে পারেন সংলাপে। এই তথ্য বিএনপির সিনিয়র নেতাদের।

এ ব্যাপারে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদা জাতীয় সংলাপের জন্য রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসনকে সংলাপের জন্য চিঠি দিয়েছেন। এই চিঠির ইতিবাচক দিক রয়েছে। দেশের সুশীল ও নাগরিক সমাজ সংলাপের যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ উদ্যোগে সরকারকে আগ্রহী হওয়া দরকার। সেটা হলে ভালো হবে। যে অবস্থা চলছে, এই অবস্থা বেশিদিন চললে দেশের ক্ষতি হবে। দেশে যে নৈরাজ্য চলছে, এই চলমান অবস্থার সমাধান প্রয়োজন। সেটা সরকারপ্রধানকে বুঝতে হবে। সেটা বুঝেই উদ্যোগ নিতে হবে।’
কিন্তু সরকারপ্রধান বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করবেন না বলে জানা গেছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘এটিএম শামসুল হুদার প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য। সরকার আলোচনায় বসবে না।‘
এ ব্যাপারে মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘তোফায়েল আহমেদ যে কথা বলছেন, এটা কোনো কাজের কথা নয়। এটা সরকার বললে সেটা সরকারের ভুল। সরকারকে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করেই সংকট সমাধানের জন্য চেষ্টা করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তছনছ হয়ে গেছে। এই অবস্থায় সংকট নিরসনে সংলাপ করতেই হবে। সেটা করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির নিরসন করতে হবে।’
মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘নাগরিক কমিটির উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। তবে আমরা সেটা জানালেও সমস্যার সমাধান হবে না। এর কারণ সরকারপ্রধানকেই আগ্রহী হতে হবে। তিনি আগ্রহী না হলে সমস্যা চলবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশে সহিংসতার ঘটনা ঘটছে। বিএনপি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছে। কিন্তু পরিস্থিতি আরো জটিল আকার ধারণ করেছে। এই অবস্থায় নানা দিক থেকে অপশক্তিগুলো সক্রিয় রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন গ্রুপ কাজ করতে পারে, যাদের নানা ধরনের এজেন্ডা রয়েছে। ওইসব এজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য তারা চেষ্টা করছে। সেটা তারা বাস্তবায়ন করার কাজে সফলও হতে পারে। বিভিন্ন ফোর্সও কাজ করছে। এই অবস্থায় আমি মনে করছি, সংলাপেই সমাধান হবে।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির এ সদস্য বলেন, ‘সরকার সংলাপে আগ্রহী না হলে ভুল হবে। তবে তাদের সামনে এখনও সুযোগ আছে। এই সময়ের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে। তারা দেশকে আরো সংকটের দিকে ঠেলে দেবেন না।’
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপে রাজি করাতে হবে রাষ্ট্রপতিকে। তিনি উদ্যোগ নিলে একটা সমাধান হতে পারে। এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে তার এটাও রাজি করাতে হবে, তিনি যে সমাধান দেবেন, এজন্য দুই নেত্রীকেই ছাড় দিতে হবে। মূল লক্ষ্য হবে সংকট সমাধান করা। প্রধানমন্ত্রী রাজি হলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতি যদি জানান যে, শেখ হাসিনা সংলাপে রাজি এবং সমাধানও করবেন, এরপর তিনি সেখানে যাবেন। রাষ্ট্রপতির মধ্যস্থতায় দুই নেত্রীর মধ্যে সংলাপ হতে পারে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। সেটা হলে প্র্রয়োজনে রাষ্ট্রপতি সফলভাবে উদ্যোগ নিলে কর্মসূচি স্থগিত করেও আলোচনায় যেতে পারেন খালেদা জিয়া। তবে সেটা যেমন সরকারের এমন চাল না হয় যে, বিএনপিকে সংলাপের নাম করে আন্দোলন থেকে সরিয়ে আনা। সেই ফাঁদে বিএনপি পা দেবে না। আসলে সংলাপ তখনই হবে যখন সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আর না হলে হবে না।’
সরকার সংলাপ করবেই না, কোনো উদ্যোগও নেবে না বলে স্পষ্ট করেই জানিয়েছে, এটা হলে বিএনপি কী করবে এই ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিএনপি আন্দোলন চালিয়ে যাবে। সংলাপ হতেই হবে। সেটা এখন হোক আর পরে হোক। সংলাপ করবে না এটাতো কোনো সাংবিধানিক কথা হলো না। সরকার সংবিধানের কথা বলে সেই কথা তো তাদের মানতে হবে। সংবিধানের কোথাও বলা নেই যে, সংলাপ করা যাবে না। রাজনৈতিক দলকে দমন করতে হবে, কর্মসূচি পালন করতে দেওয়া যাবে না- এগুলো বলা নেই। কিন্তু সরকার তো ধারাবাহিকভাবে সংবিধান লঙ্ঘন করে চলেছে। কেবল ক্ষমতকার মেয়াদ পাঁচ বছর পূরণ করার জন্য নির্বাচনের ব্যাপারে সংবিধানের বিধান মানার কথা বলবেন আর অন্য কোনো বিষয়ে বলবেন না, সেটা হতে পারে না।’

One comment

  1. B N P JOGE BAED PATHE – NO SAGLP ?

Leave a Reply