Home / প্রচ্ছদ / ঢাকায় শোডাউনের চিন্তা বিএনপির

ঢাকায় শোডাউনের চিন্তা বিএনপির

চলমান অবরোধ কর্মসূচি রেখেই রাজধানী ঢাকায় বড় ধরনের শোডাউনের চিন্তাভাবনা করছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট। এরই অংশ হিসেবে গণমিছিল অথবা সমাবেশ করার বিষয়ে দলের ভেতরে আলোচনা হচ্ছে। এ কর্মসূচির আয়োজন করা হলেও অবরোধ প্রত্যাহার হবে না বলে জানাচ্ছে দলটি।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত জোটের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি জনগণকে আন্দোলনে সম্পৃক্ত করতে এ কর্মসূচি নিয়ে দলের হাইকমান্ডে আলোচনা শুরু হয়েছে। গণমিছিল বা সমাবেশ করলে লাভ-ক্ষতি কী হবে, সে বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে নেতাকর্মীদের সক্রিয় করতে বৃহস্পতিবার রাজধানী এবং ঢাকার আশপাশের ৯ জেলায় হরতাল ডেকেছে ২০ দল। অবরোধের মধ্যেই হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে ২৪ ঘণ্টা হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্য জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা করা হয়। বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল মিলন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আগামী সপ্তাহেও টানা কয়েক দিনের হরতাল ডাকা হতে পারে।

মহানগরীর বাইরে আশপাশের যেসব জেলায় হরতালের ডাক দিয়েছে সেগুলো হলো ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ। বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক নেতার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, আরাফাত রহমান কোকোর জানাজায় যেভাবে মানুষের ‘স্বতঃস্ফূর্ত ঢল’ ছিল, গণমিছিল বা সমাবেশে সে ধরনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চাচ্ছে দলটি। কোকোর জানাজার পর দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিশ্বাস, বিএনপির কর্মসূচিতে মানুষের ঢল নামবে।

ঢাকায় গণমিছিল বা সমাবেশ করা হতে পারে কিনা এমন প্রশ্ন করা হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, দল চাইলে অনেক কিছুই হতে পারে। কোকোর জানাজায় লাখ লাখ মানুষের সমাগমে প্রমাণ হয়েছে, নানা অপপ্রচার ও ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। দল গণমিছিল বা সমাবেশ করলে তাতে এ ধরনের জন¯্রােত নামবে।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। ওই সময় বিএনপি জোটের কর্মসূচি চলবে কিনা তা নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র বলছে, তাদের মরণপণ আন্দোলনে এসএসসি পরীক্ষার বিষয়টি ‘আমলে’ আনছে না তারা। ওই সময়ে কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বদ্ধপরিকর হাইকমান্ড। তবে অবরোধ-হরতালের মধ্যে এসএসসি পরীক্ষা হলে, ওই পরীক্ষা কর্মসূচির আওতামুক্ত ঘোষণা করা হতে পারে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ বলেন, ‘বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে। এ থেকে পিছু হটার সুযোগ নেই।’

গণমিছিল বা সমাবেশ করা হবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা ভালো বলতে পারবেন।

হঠাৎ কেন এ ধরনের কর্মসূচির চিন্তাভাবনা চলছে? বিষয়টি নিয়ে দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার সঙ্গে কথা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতারা বলেন, আরাফাত রহমান কোকোর জানাজায় জনতার ঢল প্রমাণ করেছে, জনগণ বিএনপির সঙ্গে আছে। পেট্রলবোমায় মানুষ হত্যার সঙ্গে বিএনপি জড়িত নয়Ñ তাদের মতো এ বিশ্বাস মানুষেরও রয়েছে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট এবং জনগণের মাঝে ছড়িয়ে দিতে এ কর্মসূচির বিষয়টি নিয়ে কথা হচ্ছে।

ওই নেতা বলেন, কোকোর জানাজায় জনগণের যে স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল, তা আমরা কাজে লাগাতে চাই। আমাদের বিশ্বাস, একটি সমাবেশ বা গণমিছিল হলে তাতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করবে। আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে। এতে লাখ লাখ লোকের সমাগম ঘটলে বিশ্বের কাছে একটি মেসেজ যাবে। জনগণ যে সরকারের সঙ্গে নেই, তা প্রমাণিত হবে। নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে রাস্তায় নেমে কর্মসূচি পালন করবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্র জানিয়েছে, গণমিছিল বা সমাবেশ নাম দেওয়া হলেও তাতে সারা দেশ থেকে নেতাকর্মীরা যোগ দেবেন। বিশেষ করে, অবরোধের মধ্যে ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোয় লোকসমাগমের বিষয়টি প্রাধান্য দেওয়া হবে।

এদিকে রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার বলা হয়েছে, চলমান আন্দোলনে পুলিশ, র‌্যাব ও যৌথবাহিনীর গুলি ও ‘ক্রসফায়ারে’ জোটের যেসব নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে ‘সরকারি এজেন্ট দ্বারা নিক্ষিপ্ত’ পেট্রলবোমায় যেসব সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে; তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও আহতদের সুস্থতা কামনায় শুক্রবার দেশব্যাপী জুমার নামাজ শেষে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি ও জোটের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ওইদিন মসজিদে মসজিদে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি সফলভাবে পালনের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বিএনপি জোটের এ ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে শুক্রবার বাদ জুমা অবরোধে ‘নাশকতায়’ যারা নিহত হয়েছেন, তাদের গায়েবানা জানাজার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। নাশকতায় যারা নিহত হয়েছে ও আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আজকালের মধ্যে বিএনপি নেতারা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের হাতে সহায়তার টাকা তুলে দেবে।

Leave a Reply