Home / প্রচ্ছদ / সাগরতলে রয়েছে এয়ার এশিয়ার নিখোঁজ বিমানটি

সাগরতলে রয়েছে এয়ার এশিয়ার নিখোঁজ বিমানটি

imageঢাকা: এয়ার এশিয়ার নিখোঁজ বিমানটি সাগরের তলদেশে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সকালে ১৬২ আরোহী নিয়ে ইন্দোনেশিয়া থেকে সিঙ্গাপুর যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয়ে যায় কিউজেড৮৫০৭ বিমানটি। এটি খুঁজে বের করতে সোমবার সকাল থেকে পুনরায় তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সির প্রধান বামবাং সোইলিস্তয়ো সোমবার জানিয়েছেন, তাদের ধারণা বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে এবং সাগরের তলদেশে চলে গেছে। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন,‘সমন্বয়কারী ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, বিমানটি সাগরে বিধ্বস্ত হতে পারে। সে হিসাবে একটি ধারণা করা যায়, বিমানটি সম্ভবত সাগরতলে চলে গিয়েছে। নিখোঁজ বিমানের অবস্থান সম্পর্কে এটিই প্রাথমিক ধারণা এবং তল্লাশির ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ধারণা পাওয়া যেতে পারে।’

এদিকে সোমবার সকাল থেকে ফের শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান। এ সম্পর্কে সুরাবায়া বিমান ঘাঁটির কর্মকর্তা সিজিত সেতিয়ানা সোমবার জানিয়েছেন, ১২টি জাহাজ, ৫টি বিমান, ৩টি হেলিকপ্টার এবং বেশ কয়েকটি যুদ্ধজাহাজ এই অভিযানে অংশ নিচ্ছে। ইন্দোনেশিয়া ছাড়াও এই অভিযানে আরো অংশ নিচ্ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়া। তারা ইন্দোনেশিয়ার বেলিতুং দ্বীপের পূর্ব, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং এর আশপাশের জলসীমায় সন্ধান চালাচ্ছে বলেও জানিয়েছেন সিজিত সেতিয়ানা।

এয়ার এশিয়ার নিখোঁজ বিমানটি ছিল একটি এয়ারবাস যার নাম্বার এ৩২০-২০০। রোববার সুরাবায়া শহরের জুন্দা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের প্রায় ৪৫ মিনিট পর জাকার্তার এয়ার ট্রাফিকের সঙ্গে এর যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে নিখোঁজ বিমানের পাইলট অপ্রচলিত রুটে যাওয়ার অনুমতি চেয়েছিলেন বলে জাকার্তার বিমান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন।

আল জাজিরার রিপোর্টার স্কট হেইডলার সুরাবায়া থেকে জানিয়েছেন, তদন্তকারীরা বিমানের সকল যাত্রীর প্রোফাইল এবং বাক্স পেটরার এক্সরে ফুটেজ যাচাই করে দেখছেন। তিনি আরো জানিয়েছেন, রাডার থেকে বিমানটি হারিয়ে যাওয়ার আগে স্থানীয় কয়েকজন জেলে কিছু শব্দ শুনতে পেয়েছিল।

এদিকে মার্কিন ফেডারেল অভিয়েশন অথরিটি’র সাবেক দর্ঘটনা বিশেষজ্ঞ স্টেভেন ওয়ালেস আল জাজিরাকে বলেছেন, ‘তার দৃঢ় বিশ্বাস বিমানটিকে খুঁজে পাওয়া যাবে।’ তিনি আরো বলেছেন,‘এটা পানির নিচে বিধ্বস্ত হলেও এর রেকর্ডার ৩০ থেকে ৯০ দিন পর্যন্ত সচল থাকবে এবং সিগন্যাল পাঠাবে যা তদন্তকারীদের বিমানের ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পেতে সহায়তা করবে।’

নিখোঁজ বিমানে সবমিলিয়ে ১৫৫ জন যাত্রী এবং সাত ক্রু ছিলেন যাদের সিংহভাগই ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর এবং যুক্তরাজ্যের সাত যাত্রী ছিলেন। বিমানটির সহকারী চালক ছিলেন একজন ফরাসি।

Leave a Reply