Home / রাজনীতি / সংলাপে না বসলে সংঘাত হবে : ফখরুল

সংলাপে না বসলে সংঘাত হবে : ফখরুল

fakhrul৪ অক্টোবর ২০১৪: সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যের জবাবে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সংলাপে না বসলে অতীতের মতো সংঘাত-সহিংসতা হবে। যা বিএনপি চায় না। এজন্যই সংলাপের আহ্বান জানাচ্ছে। গতকাল    
সন্ধ্যায় দলীয় চেয়ারপারসনের গুলশানের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। 
তিনি বলেন, জাতিসংঘ সফর শেষে দেশে ফিরে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া বক্তব্যে জাতি হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চিরাচরিত স্বভাবসুলভ মিথ্যাচার করেছেন। বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে যে বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে তা ছিল ফটোসেশন। একই সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের সময় এবং তার গুরুত্ব্ব নিয়েও প্রশ্ন  তোলেন ফখরুল। 
তিনি বলেন, জাতিসংঘের সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অবৈধ সরকারের প্রধানমন্ত্রী চিরাচরিতভাবে মিথ্যাচার করেছেন। অহঙ্কারী মনোভাব প্রকাশ করেছেন। সবাই আশা করেছিলেন, তিনি দেশে ফিরে লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ নেবেন। কিন্তু লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন ইঙ্গিত নেই তার বক্তব্যে। তিনি চতুরতার সঙ্গে বক্তব্য দিয়েছেন। তার বক্তব্যে জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃৃষ্টি হয়েছে। জাতি হতাশ হয়েছে।  আমরা অবিলম্বে তাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। মির্জা আলমগীর বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তি করলে সাত বছরের জেল হয়। কিন্তু মহানবী (সাঃ) নিয়ে কটূক্তি করলেও সরকার এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেননি। তার ওপর আওয়ামী লীগ নেতারা ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। মির্জা আলমগীর বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়টিকে আমরা রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চাই না। এটা সমগ্র মুসলিম জাতির ধর্মীয় অনভূতি জড়িত।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি’র সঙ্গে আলোচনায় বসা ছাড়া সরকারের আর কোন পথ নেই। সংলাপ যদি না করেন অতীতের মতো আওয়ামী লীগকে চরম মূল্য দিতে হবে। আবারও সংঘাত-সহিংসতা সৃষ্টি হবে। আমরা সংঘাত চাই না। তাই সরকারকে আহ্বান জানাবো, অবিলম্বে বিএনপি’র সঙ্গে সংলাপে বসুন। দেশের মানুষের স্বার্থে আলোচনায় বসুন। সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে সু্‌ষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে মির্জা আলমগীর বলেন, তিনি বলেছেন খুনিদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন না। কারা খুনি? গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারির ২০ তারিখ পর্যন্ত বিএনপি’র ৩০০ জন নেতাকর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই সরকারের কোন নৈতিক ভিত্তি এবং অধিকার নেই রাষ্ট্র পরিচালনা করার। তাদের লক্ষ্য এভাবে জোর করে ক্ষমতায় টিকে থাকা। তিনি বলেন, ৭১ সালে যুদ্ধ করেছি গণতন্ত্রের জন্য। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন করেছি গণতন্ত্রের জন্য। আন্দোলন করেই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে।  লতিফ সিদ্দিকীর কটূক্তির প্রতিবাদে বিএনপি কোন কর্মসূচি দেবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গোৎসব ও সামনে মুসলমানদের পবিত্র ঈদুল আজহা রয়েছে। এজন্য এই মুহূর্তে আমরা কোন কর্মসূচি দিচ্ছি না। সরকার যদি লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে কোন ব্যবস্থা না নেয় তাহলে ঈদের পর আমরা কর্মসূচি দেবো।
সংবাদ সম্মেলনে কূটনৈতিক বিষয়ে সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের জবাব দিয়ে বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিথ্যাাচার করেছেন। আসলে বান কি মুনের সঙ্গে শেখ হাসিনার কোন বৈঠক হয়নি। জাতিসংঘের দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, সেটি ছিল ৫ মিনিটের ফটোসেশন। অথচ ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৫ মিনিট, শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৫ মিনিট, আফগানিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ১৫ মিনিট করে বৈঠক করেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। শমসের মবিন বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠকের সময় নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করেছে। এছাড়া ভারতের গণমাধ্যম এই বৈঠকটিকে কোন গুরুত্বই দেয়নি। তিনি বলেন, ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন সম্পর্ক নেই। কিন্তু ফিলিপাইনে বাংলাদেশের একজন রাষ্ট্রদূত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে দাওয়াত করে খাইয়েছেন। এছাড়া নিউ ইয়র্কে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন শমসের মবিন। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘের সদস্য পদ পাওয়ার ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেয়া বান কি মুন একটি বাণী দিয়েছেন। ওই বাণীতে রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপের তাগিদ দিয়েছিলেন তিনি। বাণীতে সংলাপের  বিষয়টি থাকায় তা গণমাধ্যমে সরকার প্রচার করেনি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

Leave a Reply