Home / প্রচ্ছদ / ভাইকে ক্ষমা চাইতে হবে ঃ কাদের সিদ্দিকী

ভাইকে ক্ষমা চাইতে হবে ঃ কাদের সিদ্দিকী

kader_sidiqi২ অক্টোবর ২০১৪: বড় ভাই ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে নিয়ে এবার মুখ খুললেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় আমাদের সময়কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ভাই হিসেবে আজীবন সম্পর্ক থাকবে। তবে সম্প্রতি ভাইয়ের বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে যে প্রচারণা শুরু হয়েছে তা অতিরিক্ত। প্রথমে শুনতে হবে, তিনি কী বলেছেন, কেন বলেছেন। যদি খারাপভাবে বলে থাকেন তাহলে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আর যদি নিজ বিশ্বাস থেকে বলে থাকেন তাহলে তাকে খেসারত দিতে হবে। 
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমার বড় ভাই লতিফ সিদ্দিকী সারা জীবনই আমার ভাই থাকবেন। এ সম্পর্ক বাজার থেকে খরিদ করা কোনো সম্পর্ক নয়। এ সম্পর্ক আল্লাহ প্রদত্ত সম্পর্ক। একে রক্ষা করা আমার কর্তব্য। ভাইয়ের বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি একজন মুসলমান। ইসলামের ৫টি স্তম্ভের অন্যতম স্তম্ভ হজ। তিনি হজ নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। তবে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য আমেরিকার কোনো সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত হয়নি উল্লেখ করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, উনার বক্তব্য প্রচারিত হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। 
কাদের সিদ্দিকী বলেন, যাকে নিয়ে এত আলোড়ন, তার কাছ থেকে প্রথমে শুনতে হবে তিনি কী বলেছেন, কেন বলেছেন। যদি খারাপভাবে বলে থাকেন তাহলে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাওয়া উচিত। আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীতে পাঠান ভুল করার জন্য। ভুলের কারণে তার ক্ষমা চাওয়া উচিত। আর যদি বিশ্বাস থেকে বলে থাকেন তাহলে তাকে খেসারত দিতে হবে। তিনি একসময় জানান, আমরা সারা জীবন খেসারত দিয়ে আসছি। কিসের খেসারত জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে দেশে জন্মেছি তার খেসারত। তিনি বলেন, এই দেশের জন্মের সঙ্গে আমি এবং আমার পরিবার গভীরভাবে জড়িত। আমি আওয়ামী লীগ করি না। তবে এই দেড় দিনে যে আলোড়ন দেখলাম তাতে আমার মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়েছে- এর সঙ্গে কেউ জড়িত আছে কিনা। 
কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমি আওয়ামী লীগের বর্তমান কর্মকা- সমর্থন করি না। আমার মনে হয় গণমাধ্যমে যেটা হচ্ছে সেটা অতিরিক্ত হচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে কোনো কালো হাত আছে কিনা সে প্রশ্নও তোলেন বঙ্গবীর। মন্ত্রিসভা থেকে পদ যাওয়া বা না যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, কার মন্ত্রিত্ব কখন থাকে, কখন যায় তা আপেক্ষিক ব্যাপার। শুনছি প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভা থেকে বড় ভাইকে অব্যাহতি দিয়েছেন। মন্ত্রিসভায় সবাই প্রধানমন্ত্রীর আস্থা এবং বিশ্বাসে থাকেন। মন্ত্রিসভায় কাকে রাখবেন, কাকে রাখবেন না সেটা প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। তবে আমার জানা মতে, বিদেশ থেকে মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যকে কেউ কোনোদিন অব্যাহতি দেয়নি। আমি যতদূর জানি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এখনো এ বিষয়ে কোনো মতামতও ব্যক্ত করেননি। 
গণমাধ্যমের প্রতি ইঙ্গিত করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, আমার মনে হয় আমার বড় ভাইয়ের মতো প্রবীণ রাজনীতিবিদকে নিয়ে গণমাধ্যম যা করছে তা বিদ্বেষপ্রসূত। তিনি আরও বলেন, মনে করার কারণ আছে, যদি প্রধানমন্ত্রী খুনির সঙ্গে কথা বলা ওসমান পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন, তাহলে…। তিনি বলেন, আমি চাইব বড় ভাইয়ের কর্মকা-ের যথাযোগ্য মূল্যায়ন যেন হয়। কেউ যেন প্রভাবিত হয়ে কিছু না করেন। 
সম্প্রতি হজ, মহানবী ও তাবলিগ নিয়ে মন্তব্য করে দেশজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। তার ওই বক্তব্য প্রচারের পর দেশের বিভিন্ন গোষ্ঠী মন্ত্রীর শাস্তি দাবি করেছেন।

2 comments

  1. oporadh korechen sastito petei hobe.

  2. আমি ভলতে চাই লথিফ মত আর জেন কারো ভুল না হয়

Leave a Reply