Home / প্রচ্ছদ / টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়ারের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো প্রমান পায়নি পুলিশ: তদন্ত করবেনা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড

টাওয়ার হ্যামলেটস মেয়ারের বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো প্রমান পায়নি পুলিশ: তদন্ত করবেনা স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড

জনগন আমাদের সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে সকল
মিথ্যাচারের উচিত জবাব দেবে : মেয়ার লুতফুর রহমান

imageটাওয়ার হ্যামলেটস এর প্রথম নির্বাহী মেয়ার লুতফুর রহমানের বিরুদ্ধে গ্রান্টস প্রদানের ক্ষেত্রে অপরাধের কোনো যথাযথ প্রমান পায়নি পুলিশ। বুধবার মেট্রপলিটন পুলিশ এক অফিশিয়্যাল বিবৃতিতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তারা বলেছে, বর্তমানে এ বিষয়ে আর অগ্রসর হবে না। বাস্তবধর্মী এবং বিশ্বাস করার মতো কোনো প্রমান পায়নি এ ব্যাপারে আর কোনো তদন্ত করা হবে না।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মুখপাত্র বলেন, লোকাল গর্ভম্যান্ট এন্ড কমিউনিটি সেক্রেটারীর অফিস থেকে এ সংক্রান্ত তিনটি ফাইল আসে পুলিশের কাছে। পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গত ৬দিন এই ফাইল রিভিউ করেন এবং টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে জালিয়াতি হয়েছে এর কোনো প্রমান পাননি। তবে অডিট সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার (পি ডব্লিউ সি) আর্থিক এবং ব্যবস্থাপনার দিকটি বিস্তারিত খতিয়ে দেখবে, পুলিশেরও যোগাযোগ থাকবে তাদের সাথে।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের মুখপাত্র আরো বলেন, সবকিছু পর্যবেক্ষন করে দেখা গেছে এতে জালিয়াতি এবং অন্য কোনো ফৌজদারী অপরাধ হয়েছে এমনটি সন্দেহ করার কোনো সুযোগ নেই। এর পক্ষে যথাযথ কোনো গ্রাউন্ড পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য মেয়ারকে নিয়ে প্রচারিত বিবিসি প্যানোরামায় অভিযোগ করা হয়, তিনি কর্মকর্তাদের পরামর্শের তুলনায় বাংলাদেশী ও সুমালী কমিউনিটি সংগঠনগুলোর গ্রান্টস দ্বীগুন করে ১.৫ মিলিয়ন থেকে ৩.৬ মিলিয়ন পাউন্ডে নিয়ে গেছেন। এরই প্রেক্ষিতে কমিউনিটি সেক্রেটারী প্রেরিত অডিট সংস্থা প্রাইসওয়াটারহাউসকুপার (পি ডব্লিউ সি)-এর দুইজন অডিটর বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। ৩০ জুন এর মধ্যে তারা এর উপর একটি অডিট রিপোর্ট দেবেন ।
পুলিশের সিদ্ধান্তে কাউন্সিলের স্বাগত:
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়ার লুতফুর রহমান পুলিশের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা এ নিয়ে খুশীতে আত“হারা হতে চাইনা। কারন আমরা জানি সমাজ এবং কমিউনিটির জন্য কাজ করতে হলে একটির পর একটি চ্যালেনজ আসবে। আর এই দেশ আইনের দেশ, এখানে আইন যথাযথ ভাবে পরিচালিত হলে সত্যের বিজয় হবেই হবে। এর একটি প্রমান পুলিশের এই সিদ্ধান্ত। তবে দু:খের বিষয় হচেছ- ইলেকশনের মাত্র ৬ সপ্তাহ আগে প্যানোরামার এই ততপরতা নির্বাচিতকে প্রভাবিত করা ছাড়া আর কী হতে পারে।

তবে বিরোধীরা এই সুযোগে এসব নিয়ে গোজব বা রিউমার ছড়িয়ে আমার নির্বাচনী ক্যাম্পেইনে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে। এর বিচার জনগনই করবেন। সবাইকে বুঝেন , কাউন্সিলের আর্থিক ব্যবস্থাপনা একটি শৃংখলিত কঠিন পলিসির মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়।
প্যানোরামা এবং মেয়র:
মেয়ার লুতফুর বলেন, বিবিসির প্যানোরামা আমার বা আমাদের কাউন্সিলের বিরুদ্ধে সুর্দিস্ট ভাবে কোনো প্রমানিক অন্যায় বা দুর্ণীতি তুলে ধরতে পারেনি। ভোট পাওয়ার আশায় বাংলাদেশী এবং মুসলিম কমিউনিটির জন্য আমি অতিরিক্ত সুবিধা দিচিছ, এই কথা প্রচারিত হলেও প্যানোরামা একজন নন মুসলিম বা শ্বেতাংগকে আমার বিরুদ্ধে দাড় করাতে পারেনি। আমাদের দৃড় বিশ্বাস কমিউনিটি সেক্রেটারীর উদ্যোগে পরিচালিত তদন্তেও প্রমানিত হবে আমরা কোনো অণ্যায় করেনি, সবাইকে সমান ভাবে দেখছি।
প্যানোরামার এই আয়োজন বর্ণবাদ ও মুসলিম বিদ্যেষকে উস্কে দেবে-এমনটি বলে আসছেন নির্বাহী মেয়ার । অবশ্য প্যানোরামা এই অভিযোগ সবসময় প্রত্যাখ্যান করছে। তবে এই সংক্রান্ত গোপন তথ্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ায় বিবিসি তার সূত্রদের কাছে ইতিমধ্যে ক্ষমা চেয়েছে। পুলিশের সিদ্ধান্তের পর আইটিভি, এলবিসি এবং গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন মেইস্ট্রিম মিডিয়ার মতো বিবিসিও নির্বাহী মেয়ার মন্তব্য নিয়ে সংবাদ প্রচার করে।
মিথ্যা প্রচারনা এবং
কাউন্সিলের সফলতা:

বিভিন্ন মিথ্যা প্রচারনার জবাবে মেয়ার বলেছেন, আমাদের কাউন্সিল নানা ক্ষেত্রে সফলতা শুধু পায়নি, এর স্বীকৃতি পেয়েছে জাতীয় ভাবে। বৃটেনে প্রথম বারের মতো ফ্রি স্কুল মিল,ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস চালু করেছি আমরা। সরকার এডুক্যাশন মেনটেইন্যান্স এলাউন্স (ইএমএ) বন্ধ করে দিলে আমরা বিকল্প ভাবে চালু করি। যার ফলে বৃটেনের টপ টেন স্কুলের তালিকায় চলে আসি আমরা। কাউন্সিলের ইতিহাসে সবচেয়ে ভালো জিসিএসই এবং এ লেভেল ফলাফল অর্জিত হয়। একই ভাবে গত দু বছর দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সোস্যাল হাউজ তৈরী করে সরকারের কাছ থেকে প্রায় ৫০ মিলিয়ন পাউন্ড পুরস্কার বা বোনাস পেয়েছি। এভাবে ক্রাইম কমিয়ে রাখার জন্য কাউন্সিলের বাজেটে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়োগ দিয়েছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে ৫৫জন অতিরিক্ত পুলিশের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমি দৃড় ভাবে বিশ্বাস করি জনগন আমাদের গত সাড়ে তিন বছরের সফলতা ও আগামীর কর্মসূচী বিবেচনায় রাখবে এবং একশ্রেনীর রাইটউইং মিডিয়ার মিথ্যাচারের উচিত জবাব দেবে।
উল্লেখ্য বাংলাদেশী অরিজিন মেয়ার লুতফুর রহমান হচেছন বৃটেনের ১৫জন নির্বাচিত মেয়রের মধ্যে একমাত্র এশিয়ান ও মুসলিম। বাকী সকলেই শ্বেতাংগ। তিনি নেতৃত্ব দিচেছন প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষ, ১১হাজার কর্মকর্তা কর্মচারী এবং ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড বাজেটের।

Leave a Reply