Home / বাংলাদেশ / রাত পোহাবার আগেই ভোট শেষ ৩৫ কেন্দ্রে

রাত পোহাবার আগেই ভোট শেষ ৩৫ কেন্দ্রে

imageবরগুনার কালিরতবক দাখিল মাদরাসা কেন্দ্রে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা দল বেঁধে ব্যালটে সিল মারছে -নিজস্ব ছবি জাল ভোট, দখল, অনিয়মের গত চার ধাপের রেকর্ড ভাঙলো পঞ্চম ধাপের উপজেলা নির্বাচন। ভোট শুরুর আগেই ভোট শেষ হয় অনেক কেন্দ্রে। রাতে ব্যালট ভরা হয় বাক্সে। ভোটারদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই ভোটারদের ভয় দেখিয়ে তাড়িয়েছেন ভোট কেন্দ্র থেকে। দিনভর দখল আর জালিয়াতির উৎসব হলেও এর কোন প্রতিকার করতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। অনিয়ম আর জালিয়াতির এ রেকর্ডের নীরব দর্শক ছিল ইসি। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক গোলযোগের কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, মানুষের মনোবৃত্তির কারণে এমনটি হয়েছে। বিএনপি দাবি করেছে, ভোট ডাকাতি করে ১৯ দল সমর্থিত প্রার্থীদের জয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী অন্তত ১৯টি উপজেলায় কারচুপি ও কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে ১৯ দল, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, জাতীয় পার্টিসহ অন্যান্য দলের প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জন করেন। নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে অনিয়মের অভিযোগে ১৯টি কেন্দ্রের ভোট স্থগিত করা হয়েছে। ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখল, ব্যালটে সিল মারা ও এজেন্ট বের করে একতরফা নির্বাচনের অভিযোগে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল, পটুয়াখালীর কলাপাড়া, সাতক্ষীরার সদর, তালা ও দেবহাটা, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার, রূপগঞ্জ, ময়মনসিংহের গফরগাঁও, বরগুনা বামনা ও আমতলী, ফেনীর ছাগলনাইয়া, জামালপুরের মাদারগঞ্জ, চুয়াডাঙা সদর ও আলফাডাঙা, পাবনার তারাবুনিয়া, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, কুমিল্লার চান্দিনা, লক্ষ্মীপুরের সদর ও রামগঞ্জে নির্বাচন বর্জন করেন বিএনপিসহ অন্য দলের প্রার্থীরা। এর মধ্যে ৮ জেলার ১১টি উপজেলায় আজ হরতাল আহ্বান করেছে ১৯ দল। নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ব্রতী গতকাল সন্ধ্যায় তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বলেছে, জাল ভোট ও জালিয়াতি রোধে নির্বাচনে দায়িত্বপালনকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ব্যর্থ হয়েছেন। লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা খুন হয়েছেন। সকালে ভোট শুরুর দু’ঘণ্টার মাথায় লক্ষ্মীপুর সদরে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী একেএম সালাউদ্দিন টিপুর সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখল ও এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দীন বকুল। এর আধ ঘণ্টা পর রামগঞ্জ উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী আ ক ম রুহুল আমীনের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী ভিপি আবদুর রহিম। সকাল ১১টা থেকে সোয়া ১১টার মধ্যে চুয়াডাঙ্গা সদর ও আলমডাঙ্গা উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে কেন্দ্র দখলের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন বিএনপি সমর্থিত দুই চেয়ারম্যান প্রার্থী। সকাল সাড়ে ১০টায় পটুয়াখালীর কলাপাড়া প্রেস ক্লাবে উপস্থিত হয়ে ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী। টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে সকালে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্র দখলের অভিযোগ এনে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য সব দলের প্রার্থীরা নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। প্রার্থীদের বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা মহাসড়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন। এ সময় পুলিশ গুলি ছোড়ে তাদের ছত্রভঙ করে দেয়। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলায় একাধিক কেন্দ্র ভোট গ্রহণ শুরুর আগেই দখল করে নেয় সরকার সমর্থক প্রার্থীর লোকজন। কয়েকটি কেন্দ্রে রাতেই সিল মেরে বাক্সে ব্যালট ঢুকিয়ে রাখা হয়।

রাত পোহানোর আগেই ৩৫ কেন্দ্রের ভোট শেষ!
ঘাটাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি জানান, ঘাটাইল উপজেলার কুড়িপাড়া গ্রামের বিপ্লব হোসেন এবার নতুন ভোটার হয়েছেন। সাত সকালে তাই ভোটকেন্দ্রে গিয়েছিলেন একটু উঁকিঝুঁকি দিতে। কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পেরিয়ে একটি কক্ষে উঁকি দিয়েই তার চোখ কপালে। চার-পাঁচজন লোক মুখ বেঁধে ব্যালট পেপারে ক্রমাগত সিল মারছেন। তাদের একজন বিপ্লবকে বিনয়ের সঙ্গে বলেন, ‘এত রোদের মধ্যে কেন্দ্রে আসার দরকার নেই। আমরা রাইত জাইগা কাম শেষ করছি।’ একটি কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বলেন, রাতে যারা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ব্যালট পেপারে সিল মারলো, দিনের আলোয় তারাই ভোট চুরির বিরুদ্ধে মিছিল করেছে। দিনের আলো বাড়তে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রাতেই ভোট শেষ হওয়া কেন্দ্রের সংখ্যা। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজির হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত তিন প্রার্থী ছাড়া বাকি সবাই। সবার কাছে রাতে ভোট শেষ হওয়া কেন্দ্রের আলাদা আলাদা হিসাব আছে। সব মিলিয়ে এমন কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৫। এর মধ্যে রয়েছে কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামপুর হাজিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্ধানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্ধানপুর গণ উচ্চ বিদ্যালয়, সত্তর বাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দেওজানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লাহিড়ীবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শুকনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাকড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুশারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বাকি আছে আর চৌষট্টি কেন্দ্র। পরবর্তী এক ঘণ্টার মধ্যেই খবর আসে- এ চৌষট্টি কেন্দ্র থেকে তাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং সকাল সাড়ে আটটার মধ্যে ঘাটাইল উপজেলা পরিষদের নির্বাচন শেষ! ক্ষুব্ধ প্রার্থীরা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ত্বরিৎ ব্যবস্থা নিতে অনেক অনুনয় করলেন। কর্মকর্তার এক কথা। তিনি নির্বাচন কমিশনকে প্রার্থীদের এই অভিযোগ লিখিতভাবে জানাবেন। সিদ্ধান্ত নেয়ার মালিক নির্বাচন কমিশন। তার কিছুই করার নেই। ক্ষোভে, দুঃখে, অভিমানে উপস্থিত সব প্রার্থীই একযোগে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। ঘাটাইল ব্রাহ্মণশাসন মহাবিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, ‘নির্বাচনী জালিয়াতির ক্ষেত্রে এ ঘটনা নজিরবিহীন।’ অবশ্য গত রাতেই এই নীল নকশা নাকি সম্পন্ন হয়েছিল। নির্বাচনের আগের রাতে বিএনপি মনোভাবাপন্ন কমপক্ষে ১৫ জন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়। প্রশিক্ষণ করার পরও একাধিক কর্মকর্তাকে শেষ পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হয়নি। আবার প্রশিক্ষণ করেননি এমন কয়েকজনকে ডেকে এনে দায়িত্ব দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৯৯টি কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৩টি কেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল কেন্দ্রগুলো হলো কুড়িপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সন্ধানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাকড়াই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ‘প্রার্থীরা সময় দিলে তদন্ত করে আমি অভিযুক্ত কেন্দ্রগুলো বাতিল করতে পারতাম। তারা তড়িঘড়ি করে নির্বাচন বর্জন করায় আমার কিছু করার ছিল না।’ জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘অভিযোগ সঠিক না। ভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

গুলিতে নিহত ১, জালভোট ও কেন্দ্র দখলের উৎসব
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি জানান, লক্ষ্মীপুরে ৪টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরুর আগে বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে শতভাগ ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া কেন্দ্রে আসতে বাধা প্রদান, ভোটারদের হাত থেকে ব্যালট পেপার ছিনতাই, ব্যালটভর্তি বাক্স অগ্নিসংযোগ, হামলা, সংঘর্ষ, বোমা ও গুলিবর্ষণ, প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের সমর্থক ও এজেন্টদের মারধর করার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে সরকারদলীয় প্রার্থীর এজেন্ট ছাড়া বাকি কোন প্রার্থীর এজেন্ট ছিল না। সরকারদলীয় প্রার্থীর এজেন্ট ও প্রশাসনের সহযোগিতায় নিজের মনমতো প্রতীকে সিল মেরে ব্যাপক জালভোট উৎসব পালন করতে দেখা গেছে কেন্দ্রে কেন্দ্রে। অপরদিকে কেন্দ্র দখল, ব্যাপক জাল ভোট প্রদান, নানা ধরনের কারচুপিসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ এনে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মহিউদ্দিন বকুল, রামগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবদুর রহিম নির্বাচন বজর্ন করেছেন। একই অভিযোগ এনে সদরে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী মাহমুদুল করিম দিপু ও রায়পুর উপজেলা বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী এডভোকেট মনিরুল ইসলাম হাওলাদার নির্বাচন বাতিল করে পুনঃনির্বাচনের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার বরাবরে আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছে বিএনপি। অপরদিকে সদর, রায়পুর, রামগঞ্জ ও রামগতির বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে হামলা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সদর উপজেলা দিঘলী ইউনিয়নের দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের পাশে ভোট গ্রহণের আগেই পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের গুলিতে যুবলীগ নেতা কবির হোসেন নিহত হয়। তবে স্থানীয় একটি সূত্রে দাবি করছে নিজেদের ভাগ-বাটোয়ারাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন স্থানে সরকারদলীয় প্রার্থী সমর্থকদের হামলায় মানবজমিন রামগঞ্জ প্রতিনিধি আবু তাহের, লক্ষ্মীপুর নিউজ সম্পাদক এমরান হোসেন, দৈনিক ইত্তেফাক রামগঞ্জ সংবাদদাতা জাকির হোসেন মোস্তান, সকালের খবর সংবাদদাতা রহমত উল্যা পাটওয়ারীসহ অনন্ত ৫০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সদর উপজেলার আমানী লক্ষ্মীপুর, উত্তর-পূর্ব পাচপাড়া, রশিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কফিল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ ভোট কেন্দ্রসহ প্রায় ১৫-২০টি কেন্দ্রের ভোট গণনা না করে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এনে কোন রকম গণনা করা হয়েছে। সদরে চন্দ্রপুর, পশ্চিম জামিরতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রায়পুরে পূর্ব উদমারা ও স্বল্পব্যয়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ কয়েকটি কেন্দ্রে হামলা, ব্যালট পেপার ছিনতাই, বাক্সভর্তি ব্যালট পেপার অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ফলে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহাদাত হোসেন ওই ভোট কেন্দ্র স্থগিত করেছেন বলে জানান। অপর দিকে ভোটাররা জানান, সাধারণ ভোটাররা কেন্দ্রে গেলেও ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। আবার অনেক ভোটার কেন্দ্র গেলে ও তাদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার কেড়ে নিয়ে সিল মেরে বাক্সে ঢুকিয়ে দিচ্ছে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীর লোকজন। প্রতিবাদ করলে মারধর করে। তাই আতঙ্কে ভোট কেন্দ্রে আসতে সাহস পাচ্ছে না।

ভুয়া এজেন্ট, জাল ভোট
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, দুপুর ১টার দিকে পাকুন্দিয়ার বড় আজলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান স্বপ্না বেগম (৩৫) নামে এক নারী ভোটার। কেন্দ্রে গিয়ে জানতে পারেন, তার ভোট দেয়া হয়ে গেছে। ভোট দিতে না পারার ক্ষোভ নিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় কথা হয় এ গৃহিণীর সঙ্গে। তিনি আক্ষেপ করে জানান, বাড়ির পাশে কেন্দ্র বলে সংসারের কাজ সেরে একটু দেরিতে ভোট দিতে এসেছিলেন। কিন্তু আসা-যাওয়াই সার হলো, ভোট দেয়া হলো না। বেলা দেড়টার দিকে পাটুয়াভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে গিয়ে মো. ফারুক মিয়া (২৫) নামে এক ভোটার জানতে পারেন, তার ভোট আগেই দেয়া হয়ে গেছে। কেবল স্বপ্না বেগম ও ফারুক মিয়াই নয় উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে এ রকম আরো অনেক ভোটারের সঙ্গে কথা হয় যারা ভোট দিতে না পারার মনোকষ্ট নিয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গতকাল অনুষ্ঠিত পাকুন্দিয়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এ ধরনের জাল ভোটের উৎসবে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন অসংখ্য ভোটার। কেবল জাল ভোটই নয়, কেন্দ্রগুলোতে মিলেছে অসংখ্য ভুয়া পোলিং এজেন্টও। যারা পোলিং এজেন্টের নামে কেন্দ্রের ভেতরে মহড়ায় ছিলেন প্রার্থীর পক্ষে ভোট আদায়ের তৎপরতায়। এ কাজে পিছিয়ে ছিলেন না প্রার্থীদের নারী কর্মীরাও। সকাল সাড়ে ৯টায় পাকুন্দিয়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের একটি মহিলা বুথে গিয়ে পাওয়া যায়, খালেদা আক্তার, পুতুল আক্তার, মাহমুদা সুলতানা, পলিন ও স্মৃতি আক্তার নামের ৫ নারীকে। পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তাদের প্রত্যেকের ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর, সিল এবং ছবিবিহীন পরিচয়পত্র বের করে দেখান। এগুলোতে সিল, স্বাক্ষর এবং ছবি নেই কেন জানতে চাইলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি। কেন্দ্রের নারীদের অন্য ৫টি বুথে পাওয়া যায় নি কোন নারী এজেন্ট। সেসব বুথে পুরুষ পোলিং এজেন্টদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। এদেরও অনেকের কাছে ছিল না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার স্বাক্ষর, সিল এবং ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র। এসব পোলিং এজেন্টদের অনেককেই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে ঘোষণা দিয়ে সরে দাঁড়ানো এক প্রার্থীর হয়ে পরিচয়পত্র বহন করতে দেখা গেছে। একই চিত্র দেখা গেছে লক্ষ্মীয়া উচ্চ বিদ্যালয়, বড় আজলদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পাটুয়াভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কোদালিয়া এসআই উচ্চ বিদ্যালয়সহ আরো অনেক কেন্দ্রে।

গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আটক
উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি জানান, গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গতকাল দুপুরের আগে প্রবেশ করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অপরাধে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিম পারভেজকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কঞ্চিপাড়া এমএইউ একাডেমী ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মঞ্জুরুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

জাল ভোট ঠেকাতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী: ব্রতী
পঞ্চম দফা উপজেলা নির্বাচনের তৃতীয় ও চতুর্থ দফার মতো অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ব্রতী’। ভোটগ্রহণ শেষে সোমবার সন্ধ্যায় সংস্থাটির পাঠানো প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল, প্রকাশ্যে ব্যালট পেপারে সিল মারা, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও প্রার্থীদের বর্জনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন হয়েছে। চুয়াডাঙ্গা, টাঙ্গাইল ও নরসিংদীর ৮টি উপজেলায় ৭১ জন পর্যবেক্ষকের পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়, পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য নিয়োজিত থাকলেও তারা এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া এবং জাল ভোট ঠেকাতে পারেনি। রাজনৈতিক দলের প্রভাবের কাছে নির্বাচনী কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল। ফলে কেন্দ্র দখল ও জাল ভোটের হার বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুসারে পর্যবেক্ষণকৃত আট উপজেলায় ৫২-৫৭ ভাগ ভোট পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

No comments

  1. তাদের কাহিনী শুনতে শুনতে দেখতে দেখতে বেলা শেষ হয়ে যচ্ছে কিন্তু আমরা তো শুধু দর্শকের ভুমিকা আছি। কবে যে আল্লাহ আমাদেরকে রক্ষা করবেন এদের থেকে ।

Leave a Reply